চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর মিথ্যা তথ্য লিখে একইদিনে আসামিদের জামিন দেয়ার ঘটনায় কক্সবাজারের জেলা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈলের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন গ্রহণ করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

একইসাথে বিচারিক আদালতে এ জেলা জজ কোর্ট থেকে পাওয়া নয় আসামির জামিন কেন বতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো: হাবিবুল গনি ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন।

এর আগে গত ২০ জুলাই এ বিষয়ে শুনানি শেষে পরবর্তী শুনানির জন্যে আজকের দিন ঠিক করেন আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি হয়।

এর আগে ২১ জুন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। তার পর আদালতে উপস্থিত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন তিনি। আবেদনকারীর তথ্য থেকে জানা গেছে, জমির দখল নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আইনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে মিঠাছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ ভুট্টোসহ নয়জনের বিরুদ্ধে খোদেস্তা বেগম কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-১ ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী দ্রুত বিচার আদালতে নালিশি মামলা করেন।

এ মামলায় আসামিরা আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করলে ১১ এপ্রিল হাইকোর্ট তাদের ছয় সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজারের মূখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশ অনুসারে ২১ মে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে সংশ্লিষ্ট আদালত নয় আসামিকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর বিরুদ্ধে সেদিনই আসামিরা কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন দেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন (ফৌজদারি রিভিশন) করেন মামলার বাদি রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোদেস্তা বেগম (রিনা)।

আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন বলেন, জেলা জজ আদালতে জামিন আবেদনের সঙ্গে হাকিম আদালতের জামিন নামঞ্জুরের আদেশসহ অন্যান্য কাগজপত্রের প্রত্যয়িত অনুলিপি বা প্রত্যয়িত অনুলিপির ফটোকপি দাখিল করা হয়নি। তারপরও জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাদের জামিন দিয়েছেন। হাজতবাসের মেয়াদসহ সার্বিক বিবেচনায় আসামিদের জামিন মঞ্জুর করা হয় বলে আদেশে উল্লেখ করেন জেলা জজ। অথচ নয় আসামি এক মুহূর্তও হাজতে ছিলেন না। এর পর ওই জামিনের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন মামলার বাদি খোদেস্তা বেগম।