রহিম আব্দুর রহিম :
আজ থেকে প্রায় অর্ধশত বছর আগে গ্রাম-গঞ্জে জ্বীন-পরী’র আনাগোনা ছিল,নব-বিবাহিত মেয়েদের ওপর জ্বীনের আছড়ও পড়তো।আবার সুন্দর সুশ্রী পুরুষরা পরীর কবলে পড়তো।আট-দশদিন তাদের কেউ কেউ নিখোঁজ থাকতো।পাড়া শুদ্ধো হৈ-হুল্লোর, ভয়-আতংকের পাড়া-গাঁ শান্তি প্রতিষ্ঠায় আবির্ভূত হতো তথা কথিত ‘রোজা-বৈদ্য-কবিরাজ। ‘ঝাড়,ফুক,তাবিজ, কবজ কত কী!

এই কাহিনীগুলোর ভেতরের কাহিনী খুবই মজার,নববিবাহিতা মেয়েদের ছেলে পছন্দ না হলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটতো,ছেলেদের ক্ষেত্রে একই ঘটনা, সুন্দর সুশ্রী কোন পুরুষ সম্ভান্ত্র মেয়ের কবলে পড়লেই ওই ছেলে পরী’র দেশে চলে যেতো।বৈদ্য কবিরাজ ছাড়া আর রক্ষা নেই।এধরনের কুসংস্কার থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে সমাজে আর্বিভূত হয় অসংখ্য নাটক সিনেমার নির্মাতা। যাঁদের বদৌলতে আমরা যেমন শুনেছি, “পাড়ার মানুষ কয় জ্বীনে ভূতে ধরেছে—“তেমনি অন্ধকারে প্রজ্জ্বলিত হয়েছে আধুনিক সভ্যতা।এখন আর জ্বীন,পরী,ভূতের খবর পাওয়া যায় না।একইভাবে বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় বৈদ্য,রোজারা হারিয়ে যাচ্ছে।তবে মাঝে মাঝে জ্বীনের বাদশারা গভীর রাতে কারো না কারো কাছে ফোন করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার খবর যেমন পাওয়া যায়,তেমনি এই জ্বীনের বাদশারা দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারও হচ্ছে বলে জানা যায়।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টা থেকে জানলাম”ঢাকার ধামরাইয়ের আমতা ইউনিয়নের বড় নারায়নপুর এলাকার একটি রাস্তা নাকি রাতা-রাতা জ্বীনে তৈরি করেছে।যা এলাকায় সাড়া পরেছে,সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং উন্নয়ন কর্মে সম্পৃক্ত ব্যক্তি-বর্গরা যা জানে না।তবে যার জমির উপর রাস্তাটি হয়েছে,তিনি বলেছেন, “আমার জমি থেকে মাটি নিয়ে আমার জমিতেই রাস্তা করেছে।” মারাত্মক কাহিনী,স্বাধীন এবং আধুনিক উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়ন কর্মে সরাসরি জ্বীনের হস্তক্ষেপ! এটা মেনে নেওয়া যায় না।আমাদের ভালো করে জানা আছে,চাঁদে সাঈদীকে দেখেছিল বগুড়ার কোন এক গ্রামের মানুষরা। এই নিয়ে যা হবার তাই হয়েছে।আজ যদি ধামরাইয়ে জ্বীন রাস্তা করে দিয়ে থাকে, তবে একদিন এই দেশের স্বাধীনতা,এই দেশের মানচিত্র,পতাকাসহ সকল উন্নয়নেন দাবীদার যে জ্বীনারা হবে না,তা হলফ করে বলা যাচ্ছে না।

স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার পর যখন পরীক্ষার ফলাফলে অভাবনীয় সাফল্য আসে সেই দেশে জ্বীনের রাস্তা বানানোর খবরটি,জাতিকে কি বার্তা দেয়?

( কলামিস্ট,নাট্যকার ও শিশু সংগঠক)