মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ব নির্বাচনি আচরণ বিধি লংগন করায় সংসদীয় আসন ২৯৭, কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শাহীন আক্তার’কে শোকজ করা হয়েছে।

একই সংসদীয় আসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী জজ মৈত্রী ভট্টাচার্য শনিবার ২ ডিসেম্বর কারণ দর্শানোর এই নোটিশ (শোকজ) প্রদান করেন।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের হিসাব সহকারী ও নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির সহায়ক স্টাফ মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শাহীন আক্তার গত ২৯ নভেম্বর কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা লালব্রীজ থেকে শতাধিক গাড়ীর বহর নিয়ে টেকনাফ যান। টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কের দীর্ঘ প্রায় ৬০ কি:মি: জুড়ে শাহীন আক্তারের নির্বাচনি প্রচারণা সম্বলিত ব্যানার, পোস্টার, তোরণ ও গেইট নির্মাণ করা হয়েছে। শাহীন আক্তার টেকনাফ পৌঁছে জনসভা করে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে বক্তব্য রেখেছেন। যা বিভিন্ন গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে।

শোকজ নোটিশে আরো বলা হয়, এ ধরনের কাজ “সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ৬(খ), ৬(গ), ৮(ক), ১০(ক), ১০(ঙ) এবং ১২ বিধির সুস্পষ্ট লংঘন।”

এ অবস্থায় উল্লেখিত বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহীন আক্তারের কোন বক্তব্য থাকলে তা আগামী বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর সকাল ১১ টার মধ্যে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান তথা কক্সবাজারের বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ মৈত্রী ভট্টাচার্য এর কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে বা উপযুক্ত কোন প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য দিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ১৯-এ (৫) (এ) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শোকজ নোটিশ প্রাপ্ত কক্সবাজার-৪ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শাহীন আক্তার একই আসনের বর্তমান সদস্য। তিনি আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি’র সহধর্মিণী।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা এর মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাঁদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। সে হিসাবে ১৫ ডিসেম্বরের আগে কেউই নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না।

এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালা অনুসারে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তাদের মনোনীত প্রার্থী বা তাঁদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহন নিয়ে মিছিল বের করতে পারবেন না। মহড়াও করতে পারবেন না।