সংবাদদাতা :

বিশ্বব্যাপি করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আলেম-ওলামাগণ অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে সারাদেশের মসজিদের সম্মানিত খতিব-ইমামগণ মসজিদের মাইক থেকে বারবার প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে নামাজ আদায় করা হয়েছে। তবে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি এখনো চলমান রয়েছে এবং সংক্রমণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

গণসচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সমাজে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন তাদের মধ্যে শিক্ষক, মসজিদের সম্মানিত ইমাম-খতিব, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মুসলিম প্রধান দেশ হিসাবে বাংলাদেশে ইমামরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কারণ তারা লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। মসজিদের ইমাম-খতিব কিংবা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরাও জাতির এই চরম দুর্যোগময় মূহুর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করে। এসব মসজিদের ইমাম-খতিবরা সরাসরি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমাজের সকলেই তাদের শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখে থাকেন। সম্মানিত ইমাম-খতিবরা সমাজে যথেষ্ট প্রভাব রাখেন। তারা যখন কোনো বিষয়ে মতামত প্রদান করেন, সমাজের মানুষ তা সহজেই গ্রহণ করে। করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগময় সময়ে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে গণসচেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে ধৈর্যের সঙ্গে তা মোকাবিলা করার জন্য সমাজে ইমাম-খতিবরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এ ধারণায় বর্শবর্তী হয়ে রাজাপালং .—– মসজিদের ইমাম জাফর আলম। তিনি রাজাপালং ইউনিয়নের নোঙরের কমিউনিটি প্রটেকশন গ্রুপের সদস্য হিসেবে মসজিদে খুতবা দেওয়া এবং মসজিদের মেগাফোন ব্যবহার করে জনগণকে বার্তা প্রদান করে করোনা প্রতিরোধে কাজ করেন।। কোভিড-১৯ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইমামদের কাছে পৌঁছে দিয়ে মসজিদ ও মাদ্রাসায় ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কমিউনিটিতে প্রচার করেন।তিনি উখিয়ার ইমামদের নিয়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) দ্বিতীয় সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের ব্যাপক প্রচারণার উপায় উদ্ভাবনের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভারও আয়োজন করেন। যে সভায় ইমামেরা প্রত্যেক মসজিদে নামাজ পড়ার আগে কিংবা জুমার নামাজের খুতবার সময় করোনা সংক্রমণ বিষয়ে গণসচেতনা সৃষ্টি করার উদ্যোগ গ্রহণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

খুতবা কিংবা নামাজের আগে কিংবা পরে ইমাম জাফর আলম সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা এবং বাড়িতে লকডাউনে থাকাকালীন কোরআন শরীফ থেকে কীভাবে উপকার পাওয়া যায় এসব সহ স্বাস্থ্যবিধি ও সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্পর্কিত মূল বার্তা প্রচারে তারা সহায়তা করেছেন। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষের রেডিও শোনা, টেলিভিশন দেখা বা সংবাদপত্র পড়ার সুযোগ নাই। এসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে দিনে পাঁচ বার আজানের সময় সময় ইমামএই মেগাফোন ব্যবহার করে এলাকার জনগণের কাছে জনগুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রচার করে করোনা সংক্রমণ কমানোর কাজ করেন।

ইউনিসেফ, এডাবের সহায়তায় এবং নোঙ্গরের রোনা প্রতিরোধ : ঝুঁকি প্রবণতা, যোগাযোগ ও টিকাবার্তা জোরদারকরণ প্রকল্পের সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে যাতে করে কোভিড-১৯ সম্পর্কে আরও ভালভাবে জানতে পারে এবং এ বিষয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।

গ্রামাঞ্চলে ভাইরাসের সাথে সম্পর্কিত গুজব এবং মিথ্যাচার মোকাবেলা করাই ছিলো নোঙরের কার্যক্রমের একটি মূল অংশ। কারণ গ্রামাঞ্চলে সাধারণত ধার্মিকেরা বসবাস করেন এবং তারা বিভিন্ন গুজবে বিশ^াস করেন। তাছাড়া গ্রামাঞ্চলে তেমন ইন্টারনেটের ব্যবহারও চলে না আর চললেও তা খুবই কম। তাই এ ধরনের ভুল তথ্য খুবই খারাপ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। সে ক্ষেত্রে নোঙরের প্রতিনিধিরা ইমাম জাফর আলমের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ রোধে কাজ করেন। নোঙর সমাজের করোনা সংক্রমণ কমাতে করোনা সামগ্রিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করে।

ইমাম জাফর বলেন “আমরা ইমামগণ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। কোভিড-১৯ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে এবং ভাইরাসটির সাথে সম্পর্কিত ভ্রান্ত ধারণা দুর করতে আমরা মেগাফোন এবং পোস্টার ব্যবহার করেছি।

ইমাম জাফর বলেন, প্রবীণরা কোভিড-১৯ কে হুমকি মনে করেন। কারন তারা শুনেছেন যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রবীণ এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জটিলতা রয়েছে এমন লোকজন এই ভাইরাসটির দ্বারা আক্রান্ত হয়।“ তিনি আরও বলেন, “অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমরা কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে কমিউনিটিভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আমি আমার মসজিদে নামাজের সময় এবং নামাজের পরে বার্তা প্রচার করছি এবং অন্যদেরকেও এটি করতে উৎসাহিত করছি।”

করোনা ভাইরোসের সংক্রমণ রোধে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পরে তারা মুসল্লিদের উদ্দেশে সচেতন বার্তা বলতে পারেন। যার মাধ্যমে সমাজের সবার মাঝে সেটি পৌঁছে যাবে।

আসন্ন শীত মৌসুমে সংক্রমণ পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য দ্বিতীয় সংক্রমণ পরিস্থিতিতে জনজীবনের সর্বক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আমার মসজিদের সম্মানিত খতিব ও ইমামদেরকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন।

মাস্ক পরা, কিছুক্ষণ পরপর হাত ধোয়া, নাক, মুখ ও চোখ অপরিস্কার হাত দিয়ে স্পর্শ না করা এবং সব কাজে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে ওয়াক্তিয়া নামাজ ও জুমার খুতবার সময় মসজিদের মাইক থেকে নিয়মিতভাবে প্রচার করার জন্য মসজিদের খতিব/ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়।