টেকনাফ প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে পথ গতিরোধে জেরধরে আয়ুব খান (২২)নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পাঁচজন সংবাদ কর্মীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে।বৃহস্পতিবার(২৮মার্চ)ভোররাতে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ডাংগরপাড়া সংলগ্ন বটগাছতলার পাশে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত আয়ুব খান শাহপরীর দ্বীপ ডেইল পাড়ার বাসিন্দা জহির আহমদের ছেলে।
অভিযুক্তরা হলেন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ডেইল পাড়ার ইমান শরীফ ওরফে এক টিক্কার ছেলে রহমত উল্লাহ, সাবরাং ইউনিয়নের ডেগিল্যার বিল এলাকার মৃত মোহাম্মদ হাসনের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে দরিয়ার মিজান,একই ইউনিয়নের পুরান পাড়ার শফিউল্লাহর ছেলে ইব্রাহীম মাহমুদ, শাহপরীর দ্বীপ ডাংগর পাড়ার এনায়েত উল্লাহ, একই এলাকার জাহেদ উল্লাহ, টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়ার মোঃ ইসলামের ছেলে আরাফাত সানী, ডেইলপাড়া এলাকার মৃত ওসমান গনির ছেলে সাইফুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,আমার ছোট ভাই ইব্রাহীম (১৮)আমার সাথে অভিমান করে বাড়ী হতে বের হয়ে যায়।গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ীতে ফিরে না আসাই তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকি।খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে জানতে পারি আমার ছোট ভাই ইব্রাহীম (১৮) শাহপরীরদ্বীপ ডাংগর পাড়া এলাকায় রাস্তায় ঘুরাঘুরি করছে। খবর পাইয়া আমি সঙ্গীয় রাসেল (২৬) পিতা- ধল্যা , সাংশাহপরীরদ্বীপ ডেইল পাড়া সহ ছোট ভাই ইব্রাহীমকে বাড়ীতে নিয়ে আসতে যায়। যাওয়ার পথে শাহপরীরদ্বীপ ডাংগরপাড়া সাকিনস্থ বটগাছতলার পাশ্ববর্তী রাস্তার উপর পৌঁছামাত্র বিবাদীগণ সহ অজ্ঞাত নামা আরো ২/৩জন লোক মোটর সাইকেল নিয়ে আমার পথরোধ করিয়া কোথায় যাচ্চো বলিয়া জিজ্ঞাসাবাদ করিলে আমি আমার ছোট ভাই ইব্রাহীম(১৮)কে খোঁজতে যাচ্ছি বলিয়া আমি আমার কাজে চলিয়া যাইতে চাহিলে ১নং ও ৬নং বিবাদী আমাকে পাশে থাকে প্লাস্টিকের বস্তাগুলো কাঁধে সাগরের উপকূলে ভাসমান নৌকায় উঠিয়ে দেওয়ার জন্য বলে তাতে আমি অনীহা প্রকাশ করিলে ২নং বিবাদী আমাকে চড়থাপ্পড় মরিয়া তাদের নির্দেশ পালনে বাধ্য করার চেষ্টার করে এবং ১নং বিবাদী তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাত করিয়া রক্তাক্ত কাটা জখম করে।এসময় পালসার মোটর সাইকেল (রেজিঃ নংকক্সবাজার-ল- ১১-১৬১৮) চালিয়ে ঘটনাস্থলে আসিয়া ৭নং বিবাদী নিজেকে আইনশৃংখলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে বস্তা কাঁধে না নিলে আমাকে আটক করিয়া থানায় নিয়ে যাবে বলিয়া তার হাতে থাকা লাঠি দিয়া বেত্রাঘাত করে এবং ৩নং বিবাদী উপরোক্ত বিবদের কথা অমান্য কেন করছি বলিয়া বে-আদব বলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ছরিকাঘাতে গুরুতর জখম হইয়া আমি মাঠিতে লুঠিয়ে পড়লে বিবাদীরা ৭নং বিবাদী ৪, ৫ ও ৬নং বিবাদীর সহযোগিতায় আমার প্যান্টের পকেটে (তের হাজার সাত শত টাকা) ও একটি বাটন মোবাইল সীম নং-০১৮৯২-৮৪৮২৩৪ টি কেড়ে নিয়ে ফেলে।পরে খবর পাইয়া আমার আত্মীয়স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার করিয়া টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করি। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করিয়া আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করি।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মোঃ ইরফান বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে কয়েকজন লোক মিলে ছুরিকাঘাতে আহত এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। তার পিঠে, হাতের বাহু ও কোমড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গনি বলেন,সে যে হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।