নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
টেকনাফের লেদা স্টেশনে বিজিবির সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় জাফর আলম নামক এক ব্যক্তিকে বিনা কারণে আটক করার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে অভিযোগ তুলেছেন স্ত্রী হাজেরা আকতার।

তিনি বলেন, আমার স্বামী ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যাসহ নানা রোগে আক্রান্ত। লেদা স্টেশনের একটি ফার্মেসি থেকে ইনজেকশন দিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলেন।

বিজিবি চেকপোস্টে লোকজনকে মারধর করতেছে সংবাদ পেয়ে দেখতে যায়। ইতোমধ্যে জড়ো হওয়া সব লোক চলে গেছে। অসুস্থ বিধায় সে হাঁটতে পারে নি আমার স্বামী। তাকে একা পেয়ে ধরে নিয়ে যায় বিজিবি।

হাজেরা আকতার বলেন, আমার স্বামী বেশ কয়েক দিন কক্সবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অবস্থা উন্নতি না হওয়ায় চট্টগ্রাম রেফার করে চিকিৎসক। চট্টগ্রাম যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বাড়িতে গিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হয়ে গেলেন আমার স্বামী।

তিনি বলেন, বিজিকে অনেক অনুরোধ করেছি। আমাদের কোন কথা শুনেনি। অনুরোধ রাখেনি। আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে গেছে।

মাদক ও অস্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে যেন ফাঁসানো না হয়, অনুরোধ জাফর আলমের স্ত্রীর।

সংবাদ সম্মেলনে জাফর আলমের বড় ভাই ফরিদ আলম, মেয়ে সাদিয়া সোলতানা, ছেলে মোহাম্মদ জবের, জাহেদ ইকবাল, জায়েদ ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে টেকনাফস্থ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, চিহ্নিত মাদককারবারী মোঃ জাফর আলমকে ২০ হাজারের অধিক ইয়াবাসহ আটক করা হয়। তাকে নিয়ে লেদা বাজার অতিক্রমকালে তার সহচরেরা মাইকিং করে তাদের আত্মীয় স্বজন দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। এ সময় জাফর আলম এর ভগ্নীপতি ডাকাত হারুন তার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ বিজিবি ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় জনতার উপর গুলিবর্ষণসহ হামলা চালিয়ে আলমকে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি টহলদল আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। সন্ত্রাসীদের ছত্রভঙ্গ করে আসামি ও মাদকসহ বিওপিতে ফেরত আসে। সন্ত্রাসীদের হামলায় ৭ জন বিজিবি সদস্য গুরুতর আহত হয় যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের সবাইকেই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের নির্বিচার গুলিতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি হতাহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

মোঃ জাফর আলমকে জব্দকৃত ইয়াবাসহ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ।