সিবিএন ডেস্ক:

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের ঘাঁটি বলে পরিচিত গাজার কেন্দ্র অঞ্চল থেকে সাধারণ নাগরিকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর গাজায় সরে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে ইসরায়েল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই আল্টিমেটাম শেষেই ইসরায়েল গাজায় স্থল অভিযান শুরু করতে পারে। এরই মধ্যে দেশটি গাজা সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ট্যাংক ও বিপুল পরিমাণ সৈন্য জমায়েত করেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সব আলামত থেকে অনুমান করা যায়—এই সপ্তাহের শেষে অর্থাৎ আগামীকাল শনিবার থেকেই গাজায় স্থল অভিযান শুরু করতে পারে ইসরায়েল।

জাতিসংঘের মাধ্যমে ইসরায়েল জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজা উপত্যকার কেন্দ্রস্থল বলে পরিচিত ওয়াদি গাজা থেকে সেখানকার ১১ লাখ অধিবাসীকে সরে যেতে হবে। দেশটির প্রতিরক্ষাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে শেয়ার করা এক পোস্টেও এই আল্টিমেটাম দিয়েছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, এ ধরনের স্থানান্তরকে জাতিসংঘ অসম্ভব বলে বিবেচনা করছে এবং এতে কেবল ভয়াবহ বিধ্বংসী মানবিক বিপর্যয়ই ঘটবে। তিনি বলেছেন, এ ধরনের আদেশ কেবল এরই মধ্যে তৈরি হয়ে থাকা একটি বিয়োগান্ত ঘটনাকে স্রেফ বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে পরিবর্তিত করবে।

তবে ইসরায়েলিরা গাজায় স্থল অভিযান চালানোর বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এরই মধ্যে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত ঘোষণা দিয়েছেন, ‘যুদ্ধের সময় এসে গেছে।’ গ্যালান্তের এই মন্তব্যের যথার্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়, গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনীর সমর প্রস্তুতি থেকে। প্রস্তুতি যে শেষ হয়েছে তা টের পাওয়া যায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনীর টুইট থেকে। সেখানে বলা হয়েছে, আল্টিমেটাম শেষ হলেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী গাজায় ‘উল্লেখযোগ্য’ অভিযান চালাবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল গাজা সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ট্যাংক জমায়েত করেছে। কোনো ইসরায়েলি কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এই জমায়েতের কথা স্বীকার করেননি। তবে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সাবেক এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েল সরকার দেশের প্রায় ২০ হাজার রিজার্ভ সেনা গাজায় অভিযানে পাঠাতে পারে।

এই অবস্থায় বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সপ্তাহান্তে অর্থাৎ আগামী কাল শনিবারের মধ্যেই ইসরায়েলের স্থল অভিযান শুরু হয়ে যেতে পারে। কারণ, ইসরায়েল ঘোষিত ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হবে শনিবার সকালের দিকে, যেহেতু এই আল্টিমেটাম সামনে এসেছে ফিলিস্তিনের স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সকালে।

এ বিষয়ে লেবাননে নিযুক্ত সাবেক অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূত ইয়ান পারমিটার আল-জাজিরাকে বলেছেন, হয়তো চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ (শনিবার) ইসরায়েলের অভিযান শুরু হতে পারে। তিনি বলেন, তবে এই অভিযানের মূল্য হবে খুবই চড়া, প্রাণহানি হবে ব্যাপক। তাঁর মতে ইসরায়েল যে আল্টিমেটাম দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করা এক কথা অসম্ভব বরং এর মানে হলো, ইসরায়েল চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দিল যে, অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বর্তমান এই বিশ্লেষক বলেন, ‘যদি ইসরায়েল ভেতরে (গাজার) প্রবেশ করে তবে এই অভিযানে তারা বিপুল পরিমাণ সৈন্য হারাবে। আমরা এটাও অনুমান করতে পারি যে, এই অভিযানে গাজায় বিপুলসংখ্যক ও মারাত্মক বেসামরিক প্রাণহানি হবে।’

এদিকে ইসরায়েল যদি গাজায় অভিযান শুরু করে তবে তার পরিণতি হবে মারাত্মক। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, যদি ইসরায়েল গাজায় অভিযান শুরু করে তবে তাদের আরও একটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে হতে পারে। ইরানের এই সতর্কবার্তা ইঙ্গিতপূর্ণ। কারণ ইরানের মিত্র বলে পরিচিত লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছে প্রায় দেড় লাখ রকেট রয়েছে। যা অনবরত ইসরায়েলের ওপর নিক্ষেপ করতে থাকলে তা দেশটির গর্বের ধন আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও নাকাল করে ফেলতে পারে। যা ইসরায়েলে হামাস ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের স্থল অভিযান পরিচালনার সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।

তবে কেবল দুই ফ্রন্ট নয়, ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে আরও একটি ফ্রন্ট অর্থাৎ তৃতীয় ফ্রন্টেও ইসরায়েলকে যুদ্ধ করত হতে পারে। কারণ পশ্চিম তীরেও ইসরায়েল বিরোধী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর কমতি নেই। এ বিষয়ে পারমিটার বলছেন, ‘পশ্চিম তীরে আরেক ফ্রন্ট খুলে গেলে তা হবে ইসরায়েলের জন্য এক মূর্তিমান দুঃস্বপ্ন।’