জালাল আহমদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে নিয়মিত ক্লাস করে বহিরাগত শিক্ষার্থীরা।
সেশনাল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন অনেকেই। কিন্তু ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ না করেও বছরের পর বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন হলে থাকে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ, ইডেন কলেজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে চলে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নাম ও রোল নাম্বার ব্যবহার করে ক্লাস শুরু করেন।

জানা যায়,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ সহ কয়েকটি বিভাগে‌ অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এসব বিভাগে “ক এবং খ ” দুটি সেকশন আছে।
অনেক সময় এক সেকশনের শিক্ষার্থীরা অন্য সেকশনে ক্লাস করে।একই বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে কেউ আপত্তি করে না।
অনেকেই এসব বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বা পরবর্তী বছর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে চলে যায়। অনেক শিক্ষার্থী ছাত্রত্ব বাতিল না করে বিদেশে পাড়ি জমায়।

ফলে এসব ছাত্রের নাম ও রোল নাম্বার ব্যবহার করে বহিরাগত শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস করে আসা এই রকম দুইজন বহিরাগত ছাত্র ধরা পড়েছে এই বছর।

সাড়ে তিন বছর পর ধরা খেল সাজিদ:
ঢাকা বিশ্ববদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র পরিচয় দেওয়া “মোঃ সাজিদুল কবির” নামে এক ছাত্র কে গতকাল ২৪ আগস্ট দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে।তার ফেসবুক আইডির নাম ‘সাজিদুল কবির”।নিজেকে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “নবাব সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র বলে তার ফেসবুক আইডির প্রোফাইলে লেখা আছে।যদিও হলের প্রশাসনিক নাম শুধু মাত্র “সলিমুল্লাহ মুসলিম হল “।
তার বাসা নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈশা খাঁ বাসে যাতায়াত করত সে। ঢাবি ছাত্র পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।ঢাবি ছাত্র পরিচয়ে বিভিন্ন সংগঠন থেকে মেধাবী সংবর্ধনা গ্রহণ করেছে। ঢাবি ছাত্র হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করত সাজিদ।

যেভাবে শনাক্ত হলো সাজিদ:
মূলত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী যারা বর্তমা‌ন ৬ষ্ঠ সে‌মিস্টারে অধ্যয়নরত তারা ব্যাপারটা প্রাথ‌মিকভাবে শনাক্ত করে । তারপর ক্লাসের সিআরদের মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষকদের সহায়তায় সাজিদ ধরা পড়ে। প্রক্টর অফিসের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয় সাজিদ কে । সাজিদের ধরা পড়ার কাহিনী পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

ডেটলাইন ১৩ আগস্ট, ২০২২: ৫ম সে‌মিস্টারের এক‌টি কোর্সের সেশনাল রেজাল্ট প্রকা‌শিত হয়। তখন মে‌ডিক্যালে চলে যাওয়া একজনের সেশনাল প‌রীক্ষার রেজাল্ট আসে। তার রোলের পাশে নম্বর দেখে প্রথমত সহপাঠিদের মনে সন্দেহ সৃ‌ষ্টি হয়।
ডেটলাইন ২১ আগস্ট, ২০২২:৬ষ্ঠ সে‌মিস্টারের এক‌টি কোর্সের ক্লাসটেস্ট শেষে সং‌শ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষকের উপ‌স্থি‌তিতে ৪জন সিআরসহ (সিআর মানে ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ) ৭ জন সহপাঠী উত্তরপত্রগুলো গু‌ছিয়ে দি‌চ্ছিল স্যারকে। তখন তাদের ‌বি সেকশনের সিআর জিসার চোখে পড়ে মে‌ডিক্যালে চ‌লে যাওয়া সেই ছাত্রের রোল ও নাম সম্ব‌লিত খাতা‌টি। সে উপ‌স্থিত শিক্ষককে বিষয়টি অব‌হিত করে। তারপর তারা এটেনডেন্স শিট দেখে তার আশপাশে কে বসে‌ছিল তা বের করে। তার সামনে বসা বন্ধু‌টি জানায়, তার নাম সা‌জিদ। এরপর তারা তাকে হাতেনাতে ধরার অপেক্ষা করে।
গতকাল ২৪ আগস্ট এক‌টি কোর্সের ক্লাসটেস্ট অনু‌ষ্ঠিত হয়। প‌রীক্ষা শুরুর আগেই ছেলে‌টিকে জিসা দেখে এবং বা‌কি সিআরদেরকে ও বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ডক্টর মামুন আল মোস্তফা কে অব‌হিত করে। প‌রীক্ষা শুরু হয় বেলা ১২ টায়। তার কিছুক্ষণ পর দুজন শিক্ষক ক্লাসে এসে প‌রীক্ষার হলে দা‌য়িত্বরত শিক্ষকের অনুম‌তি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ও পরবর্তীতে প্রক্ট‌রিয়াল টিমের কাছে সোপর্দ করে।
অনেক গ‌ড়িম‌সির পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় সা‌জিদ মুচলেকা দেয় ও স্বীকার করে যে সে ২০১৮ সালের ভ‌র্তি প‌রিক্ষায় অকৃতকার্য হয় এবং ২০১৯ থেকে সে লু‌কিয়ে ক্লাস করেছে।

* ফাইনাল এক্সাম দিতো না সাজিদ:
সাজিদ ফাইনাল এক্সাম দিতে পারত না। কারণ তার কোনো রোল নেই।

* সাজিদের রোল না থাকলে টিকে থাকল যেভাবে: রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রতি ব্যাচে ২২০ জনের মতো শিক্ষার্থী ক্লাস করেন। এখানে বি ইউনিট ছাড়াও ডি ইউনিটের মাধ্যমে সাইন্স ও কমার্স থেকে সমান সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল ২০১৮-২০১৯ সেশনে। এখানের অনেকেই পরবর্তীতে সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা দিয়ে মেডিকেলে এবং অনেকে বাইরে পড়তে যাবার ঘটনা আছে। তাদের সংখ্যা ১২-১৫ জনের মতো। ভর্তি হয়ে চলে যাওয়া সাকিব নামে এক ছেলের রোল ১৮২ ।১৮২ রোলধারী সাকিব বিভাগের কারো সাথে ভালোভাবে পরিচিত হবার আগেই বাইরে চলে যায়।বর্তমানে সে কানাডায় আছে বলে জানা যায় । মূলত সাকিবের রোল কে নিজের রোল বলে ব্যবহার করে এসেছে সাজিদ।

* প্রেজেন্টেশন-ভাইভা দিতো না সাজিদ:
করোনার পূর্বে হল ওয়াইজ সীট প্ল্যানিং হতো। তখন সাজিদ কেন এক্সাম দিচ্ছে না জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানাতো যে সে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এজন্য এক্সাম দিবে না। পরবর্তীতে করোনার সময় ও পরে তৃতীয় সেমিস্টার থেকে নামের স্পেলিং অনুযায়ী রোল হওয়ায় আসলে বুঝা যায় নি যে কে কোথায় ছিল।এক্সাম দিচ্ছে কী নাকি দিচ্ছে না। গ্রুপ প্রেজেন্টেশনগুলোতে “১৮২” রোল ব্যবহার করতো এবং বেশ কয়েকবার অনুপস্থিত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

* সাজিদের রোল বিভ্রাট ধরা পড়ে নি কেন:
রেজিস্টার বিল্ডিং থেকে এখনো বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে রোলকলের জন্য যে কাগজ দেয়া হয়, তাতে ২০১৯ সালে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নাম এখনও আছে।

করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস বন্ধ থাকায় পারস্পরিক চেনা -জানায় সরাসরি আঘাত করেছে। এছাড়া সাজিদ সহপাঠীদের সাথে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতো, যেমন একাধিক ব্যক্তি সাথে শ্যাডোতে এক্সামের কোর্স ম্যাটারিয়াল নেয়া, সূর্যসেনের ক্যাফেটেরিয়ায় খেতে যাওয়া, সমাজবিজ্ঞান চত্ত্বরে অফটাইমে আড্ডা দেয়া ইত্যাদি। তাই আপাত দৃষ্টিতে সাজিদকে অছাত্র বলে ভাবা যায়নি কিংবা চিহ্নিত করা যায় নি।

সাজিদ হলে থাকতো না :
সাজিদের ফেসবুক আইডিতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সাজিদ কখনোই হলে থাকে নি। নারায়ণগঞ্জে থাকতো এবং নিয়মিত ঈশা খাঁ বাস ব্যবহার করতো। হলে না থাকায় এসএম হলে সংযুক্তির মিথ্যাচারটি সহপাঠীদের কাছে ধরা পড়ে নি।

* সাজিদের বিরুদ্ধে নারীর সাথে প্রতারণার অভিযোগ:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা মঞ্চ সাজিদের বিরুদ্ধে নারীর সাথে প্রতারণার অভিযোগ এনেছে। আনীত “নারীদের সাথে প্রতারণার” ব্যাপারে জানা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও ঢাবিয়ান পরিচয়ে গত সাড়ে তিন বছরে দুইটি প্রেমের চেষ্টা করলেও সেগুলো সফল হয় নি। আর ব্যাচের কোনো মেয়ের সাথে, ডিপার্টমেন্টে বা বাইরে কোনো মেয়ের সাথে অসদাচরণমূলক আচরণ করতে দেখা যায় নাই।

আয়নাবাজিও কে হার মানায় ঢাবির কথিত ছাত্র নাইম:
তার নাম শুধু নাইম। “নাইম” নামক এই ছেলের নামের আগে এবং পরে কোন শব্দ নেই।
তাতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র,শিক্ষক এবং কর্মকর্তারা তাকে নূন্যতম সন্দেহ করে নাই।

‘নাইম ‌‌‌‌’ এর প্রতারণার কাহিনী অমিতাভ রেজা নির্মিত এবং চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত “আয়নাবাজি” ছবির কাহিনীকেও হার মানায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের ছাত্র পরিচয় দিয়ে বিজয় একাত্তর হলে গণরুম হয়ে আবাসিক সিট নিয়ে থাকত ঢাকা কলেজেরই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাইম। চার বছর পর জানা গেল,নাইম নামক এই ছেলেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয়।সে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিজয় একাত্তর হলে সিট নিয়ে থেকেছে।
তাকে এই কাজে সহযোগিতা করেছে বিজয় একাত্তর হলের কতিপয় ছাত্রলীগ নেতা।বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান নিশান নামের এক ছাত্রলীগ নেতার আশ্রয়ে নাইম হলের গণরুমে উঠেছিল বলে জানা যায়। পরে নাজমুল হাসান নিশান তাকে উঠানোর বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে। তিনি বলেন, হয়তো নাইম তার কোন বন্ধুর সহায়তায় হলে উঠেছিল।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হিসেবে ক্লাস , পরীক্ষা এবং ভাইভাতে অংশগ্রহণ করার ছবি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শেয়ার করত নাইম। ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করত।
ছাত্রলীগের কর্মী এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র পরিচয় দিয়ে নাইম নামক এই ছেলের প্রেমের ফাঁদে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের এক ছাত্রীর জীবন শেষ। করোনা মহামারীর সময় নাইম রোকেয়া হলের ঐ ছাত্রী কে বিয়ে করে ফেলে।

নাইম যেভাবে ধরা পড়ে:
প্রতারণার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের একটি রুমে আবাসিক ছাত্র হিসেবে বৈধ সিট নিয়ে থাকত নাইম। করোনা মহামারীর পর হল খুললে নাইম রীতিমতো হলে উঠেছিল।গত ফেব্রুয়ারি মাসে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায় নাইম। দীর্ঘদিন ধরে হলে না আসায় রুমমেটদের কৌতুহল সৃষ্টি হয়। রুমমেট কর্তৃক নাইম এর ড্রয়ার ভেঙে দেখা যায় তার অ্যাসাইনমেন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। তবে একজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ আছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ঐ নামে কোন শিক্ষক নাই। কিন্তু ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে একই নামে একজন শিক্ষক আছেন।তাই তার রুমমেটগণ হলে অভিযোগ দেন।হল প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তার আগেই বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে যায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিউজ হয়। শুরু হয় তোলপাড়। নাইম এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ কে চিঠি দেন বিজয় একাত্তর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ডঃ আব্দুল বাছির।

হলে থাকার দায় এড়াতে পারে না প্রশাসন ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে বৈধ সিট থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারে না। সেখানে বহিরাগত শিক্ষার্থীরা কিভাবে হলে থাকে? কারণ হলে “ছাত্রলীগ” ই অঘোষিত প্রশাসক। গণরুম গুলো পুরোপুরি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিয়ন্ত্রণ করে। গণরুমে উঠতে হলে ছাত্রলীগের “ইমিডিয়েট সিনিয়র” নেতাদের সুপারিশ লাগে।তাই গণরুমে উঠার সুপারিশকারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কখনো দায় এড়াতে পারে না। করোনা মহামারীর কারণে হল বন্ধ থাকার পর গত বছর ৫ অক্টোবর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলে ছাত্ররা উঠতে শুরু করে। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গণরুম উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে ঠেকাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবার গণরুম দখল করে নেয়। হলের সমস্ত প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকে হল প্রভোস্ট এবং আবাসিক শিক্ষকগণ।তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল গুলোতে বহিরাগত শিক্ষার্থীদের থাকার দায় এড়াতে পারে না হল প্রশাসন।

বহিরাগত শিক্ষার্থীরা ক্লাস করার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন তাসনিম আরেফা সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্ব ছাত্রদের প্রটেক্ট করা এবং শিক্ষা দেওয়া।কে ছাত্র এবং কে ছাত্র না তা শিক্ষকদের বিষয় নয়।তাই নাইম এবং সাজিদ এর বিরুদ্ধে যখনই ছাত্ররা শিক্ষকদের কাছে জানিয়েছে , তখনই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
সাজিদ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন,সাজিদ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত একজন ছাত্র। হয়তোবা জানার আগ্রহ থেকেই সে ক্লাসে আসতো। তাতে আমাদের কোন ক্ষতি হয়নি।

তার কোন “ক্রিমিনাল মোটিভ” পায়নি প্রক্টর অফিস।তাই তাকে থানার মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে যোগাযোগ করে জানা যায়, সাজিদকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে ‌‌।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মওদূত হাওলাদার জানান, সাজিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ ছাত্র না।সে মোট ৮-১০ টি‌ ক্লাস করেছে।তাই তার মা-বাবার জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।