জালাল আহমদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিন ব্যাপী “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ২০২২” । এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো : “বৈশ্বিক সংহতি রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার সুনিশ্চিতকরণ” ।

কূটনৈতিক দক্ষতার বিকাশ, বিশেষ কোন ইস্যু নিয়ে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা ও বিতর্কের মননশীলতার উত্থাপনের লক্ষ্যে এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। দেশীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছে আয়ারল্যান্ড, কানাডা ও ডেনমার্ক সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ ২০২২ এর কৌশলগত অংশীদার বাংলাদেশ জাতিসংঘ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজী এমপি।
সমাপনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু সবর্প্রথম ৬ দফার মাধ্যমে স্বাধীনতার প্রসঙ্গ সবার সামনে নিয়ে আসেন । বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে আমরা হয়তো এ জায়গায় উপস্থিত হতে পারতাম না ।আগে আমরা ছিলাম পাকিস্তানিদের অধীনে ছিলাম ।কিন্তু এখন আমরা স্বাধীন ।’ তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় আগারতলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী সহযোদ্ধাদের কথা স্মরণ করে বলেন, “যুদ্ধের পর সহযোদ্ধাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত ছিলো । একদিন আমরাও আর থাকবো না , তোমরা আমাদের স্মরণ করো”।
তরুণদের দক্ষতা অর্জনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ সংগঠনের ভুমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন- “সম্মেলনে উপস্থিত নবীনরাই আগামীতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে এখানে উপস্থিত তরুণরাই তার প্রমাণ “।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘের মহাসচিব মোঃ আশিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে ইউনিডোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ জাকিউজ্জামান এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন বিশেষ অতিথি, জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্রের প্রাক্তন জাতীয় তথ্য অফিসার, যোগাযোগ কৌশলবিদ ড: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সংগঠেনর প্রাক্তন মহাসচিব মোঃ মামুন মিয়া সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
বিশেষ অতিথি ইউনিডোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ জাকিউজ্জামান বলেন, “তিনদিনের এই সম্মেলন তোমাদের চিন্তা ও মত প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে। এ সম্মেলনের মুল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো বির্তক, আলোচনা, বক্তৃতার মতো সৃজনশীল দক্ষতার বিকাশে ভুমিকা রাখছে” ।

বিশেষ অতিথি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন বলেন ,
“ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন একটি স্বতঃস্ফূর্ত এবং একটি অত্যন্ত তথ্যপূর্ণ অধিবেশন যেখানে বিশ্ব বিষয় এবং কূটনীতি সম্পর্কে আরও বেশি করে জানার সুযোগ রয়েছে। এই নির্দিষ্ট এজেন্ডাটির সঠিক বিশ্লেষণ এবং গবেষণা আমাদের সকলকে বিভিন্ন দিক থেকে স্বাধীনতার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে “।
প্রাক্তন জাতীয় তথ্য অফিসার ড: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা বাহিনী বিশ্ব দরবারে যে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তার প্রমাণ হলো সিয়েরা লিওনের ২য় রাষ্ট্রভাষা বাংলা ।
তিনি আরোও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গত ৮ সেপ্টেম্বর এ/ ৭৬/এল৮৫ রেজুলেশনের মাধ্যমে ইউএন ইযুথ অফিস প্রতিষ্ঠা করে যা একটি মাইলফলক । তিনি সংগঠনের সফলতা কামনা করেন।

গত ৮ সেপ্টেম্বর বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সুচনা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর পুরোদমে আলোচনা ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবার পর আজ ১০ সেপ্টেম্বর অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা দক্ষতার মাধ্যমে তাদের প্রদানকৃত সমস্যার সমাধান বের করেন । প্রতিটি কমিটি যে সমাধান বের করে তার খসড়া প্রস্তাবগুলো নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে উপস্থাপন করা হয় ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ ২০২২ ছায়া জাতিসংঘ কমিউনিটিতে একটি ঐতিহাসিক মুর্হুতের সুচনা করে। প্রথমবারের মতো সম্মেলনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ষষ্ঠ কমিটি ।

এ বছরের সম্মেলনে মোট এগারোটি কমিটি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।এর মধ্যে রয়েছে –
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল,জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ষষ্ঠ কমিটি (বৈধ), জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জলবায়ু সম্পর্কিত ফ্রেম ওয়ার্ক কনভেনশন, জাতিসংঘ লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতাবিষয়ক সংস্থা , জাতিসংঘ শিক্ষামূলক, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা , আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল, বাংলাদেশ বিষয়ক বিশেষায়িত কমিটি , আন্তর্জাতিক প্রেস ।
২০১২ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ সংগঠন (ডিউমুনা) গর্বের সাথে কার্যকরভাবে এই অনুষ্ঠানটি পরিবেশন করে আসছে, যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ ছাত্র সম্মেলন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ।