সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা লে.কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারকে একটি বিশ্বমানের পর্যটন শহর হিসেবে গড় তোলতে চান। ইতোমধ্যে কক্সবাজার উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা অনুমোদন হয়েছে। আমরা পরিকল্পিত কক্সবাজার চাই। জেলার ৯টি উপজেলাকে এই উন্নয়নের আওতায় আনা হবে।

আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের মিলন মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

শনিবার সকাল থেকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ফেসেপিক বীচ লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় এই মিলন মেলা। এতে সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মহসীন শেখ নাজিম উদ্দীন ও যুগ্ম সাধারণ মুজিবুল হক এর পরিচালনায় সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক কক্সবাজার পৌরমেয়র সরওয়ার কামাল, জাতীয় পার্টির জেলা আহবায়ক সংগঠনের সহ সভাপতি যথাক্রমে- মেহেরুজ্জামান, আরিফুল মউলা, রাজনীতিবিদ আনিসুল হক চৌধুরী, কমরেড সমীর পাল, নুর মোহাম্মদ সিকদার ও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা তাহের, আনিসুল হক, কক্সবাজার সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল মনসুর, সাংবাদিক ফরহাদ ইকবাল সহ নেতৃবৃন্দ।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার পিটিআইয়ের সাবেক সুপার নাসির উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম মনসুরুল হক, কমরেড সমীর পাল, সাংবাদিক শামসুল হক শারেক, এনজিও সংস্থা পালসের প্রধান নির্বাহী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কলিম, সায়েদ শাহাদুজ্জামান, ফাতেমা আনকিস ডেইজি, সফিনা আজিম, উখিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফজল করিম ভুট্টো, মুজিবুল হক আজাদ, রিয়াজুল হক, সাইদুল হক প্রমূখ।

মিলনমেলায় কউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, তেলবাজ, দখলবাজ ও দুর্নীতিবাজরা দেশ জাতি ও সরকারের জন্য ক্ষতিকর। ঘোষ, দুর্নীতি ও ভূমিদস্যুতা
কক্সবাজারকে কলোষিত করেছে। তিনি কক্সবাজারবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী জুনের মধ্যই চলমান কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতির কারণে
একজন সাবেক ডিসি জেল খেটেছে। সাম্প্রতিক বিদায়ী একজন ডিসির খবর গতকালের জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে।
তিনি বলেন, গোটা জেলায় ৯ উপজেলা থেকে ৬৯০.কিমি ভূমি উন্নয়ন কতৃপক্ষের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতার মাধ্যমে কাজ জরে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন উচ্চ আদালতের মামলায় তাঁকেও পক্ষভূক্ত করা হয়েছে। তিনি দৃড়তার সাথে বলেন, খুব শীগগিরই সৈকতের ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদ করা হবে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সকল কাজ হবে তেলবাজী, ঘুষ ও দুর্নীতি মুুক্ত।

তিনি বলেন, এই উন্নয় কাজে নেমে তার বিরুদ্ধে ২৮ টা মামলা হয়েছে। তার কুশপুত্তলিকা পুড়ানো হয়েছে।
শুরু থেকেই তাঁকে চরম বিরোধিতার সম্মূখীন হতে হয়েছে।
কিন্তু তিন দমে যাননি। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আজ কক্সবাজারবাসীর কাছে সমাদৃত ও প্রশংসিত একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

তিনি আহবান জানিয়ে বলেন,যেকানে অনিয়ম দেখবেন তখন প্রতিরোধ গড়ে তোলবে আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনকে।

তিনি আরে বলেন, এই উন্নয়ন কাজ করতে চাই সবাইকে নিয়ে
সমন্বিতভাবে। সবাই ভোট চায়, তাই যেন তেনভাবে এপর্যন্ত উন্নয়ন কাজ চলে আসছে। এখন আর তা হবেনা। এখন তেলবাজরা সবাই আওয়ামী লীগের শ্লো দিয়ে থাকে। এরাই আবার রাত পোহালে অন্য দলের শ্লোগান দিতে দেরী করবেনা।

কউক চেয়ারম্যান বলেন, বাঁকখালীর দুই তীরে হাতির ঝিলের মত সুন্দর হবে। খুরুস্কুল হবে আধুনিক নতুন কক্সবাজার শহর।

কউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে অচিরেই ঝুপড়িমুক্ত করা হবে।

এখানে সরকারী ভূমির যথাযথ ব্যবহার করা হবে।
তিনি আফসোস করে বলেন বাধার কারনে গত ৫ বছরেও একটি শিশু পার্ক করতে পারননি।
মিলন মেলায় জেলার ৯ উপজেলা থেকে সংগটনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা কক্সবাজারবাসী কক্সবাজারকে সুন্দর, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত কক্সবাজার হিসেবে দেখতে চাই।

মিলনমেলার শুরুতে কোরআন তেলওয়াত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, রেজিষ্ট্রেশন করা হয়। এরপর আলোচনা সভা এবং কক্সবাজারকে টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রধান অতিথি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লেঃ কর্ণেল(অবঃ) ফোরকান আহমদ, সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, কক্সবাজার কমার্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ফজলুল করিম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনসুরুল হককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে কেক কেটে কউক চেয়ারম্যানের শুভ জন্মদিন পালন করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দুপুরে প্রীতিভোজের পরেই মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।