সাজন বড়ুয়া সাজু:

জীবনের ভাগ্য ফেরাতে ভিনদেশে পাড়ি জমাতে চেয়েছিল কক্সবাজারের উখিয়ার যুবক মিটন বড়ুয়া।
তবে প্রায় এক সপ্তাহ পর দালালের খপ্পরে পড়ে লাশ হয়ে ফিরতে হল তাকে।
গত বুধবার চট্রগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভোজপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ফেনী নদীতে তার লাশ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে বিজিবি।পরে পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ চট্রগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
মৃত্যুর খবর পাবার পরপরই পরিবারের স্বজনদের আহাজারি যেন থামছেই না।নেমেছে শোকের ছায়া।
জানা যায় গত বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বেরিয়ে পড়ছিলেন উখিয়া উপজেলার মধ্যরত্না গ্রামের সামাচরণ বড়ুয়ার ছেলে মিটন বড়ুয়া,এরপর দালালের হাত ধরে অবৈধভাবে ভারতের বর্ডার পার হতে কাল হয়ে দাড়ালো বর্ডারে পাশে লাগুয়া এক ছোট ফেনী নদী।
মূলত ভারতে প্রবেশ করতে সে নদী পার হতে হয়।তাই নদী পাড়ি দিয়েছিল মিটন বড়ুয়াসহ আরও ৩ জন। তবে অন্যরা কূলে ফিরলেও সাঁতার না জানা মিটন বড়ুয়া আর কীনারায় উঠতে পারেনি।
এদিকে পরিবারের দাবি মিটন বড়ুয়া সাঁতার না জানা সত্ত্বেও নদীতে নামানোর জন্য বাধ্য করেছিল সহযোগী হিসেবে থাকা পায়েল বড়ুয়া,এই বিষয়ে পায়েল বড়ুয়া সাথে বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সে কথা রাজি হয়নি।
মূলত পায়েল বড়ুয়া একজন দালাল হিসেবে চিনে সবাই,তার বাড়ি চট্রগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জলদী গ্রামে বলে জানা যায়,দুই বাংলার পরিচয়পত্রও রয়েছে তার,তাই টাকার বিনিময়ে ইউরোপে নিয়ে যাবার লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতিমাসে ভারতে লোক নিয়ে যায় পায়েল বড়ুয়া,তাই পায়েল বড়ুয়ার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিবে বলেও জানান তার পরিবারের লোকজন।এর আগে একটি থানায় জিডি করেছিল বলেও জানায়।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।তাই সুশীল সমাজ বলছে সাধারণ জনগণের সচেতন হওয়া জরুরী এবং অবৈধ উপায়ে যেন কেউ বাইরের দেশে গমন না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।