মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

মরহুম রশিদ আহমদ এর সহধর্মিণী, কক্সবাজারের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মরহুম মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান ও সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান এর চাচী ফরিদা রশিদ আহমদ আর নেই। মঙ্গলবার ৩ অক্টোবর বিকেল ৪ টা ১৫ মিনিটের দিকে ঢাকাস্থ নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি–রাজেউন)।

ফরিদা-রশিদ ট্রাস্টের সভাপতি, দানশীল, অসাধারণ মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন ফরিদা রশিদ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।

মঙ্গলবার ৩ অক্টোবর এশারের নামাজের পর ঢাকার বনানী সোসাইটি জামে মসজিদে মরহুমার নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মহীয়সী নারী ফরিদা রশিদ আহমদ হচ্ছেন-পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক শ্রমমন্ত্রী মরহুম মৌলভী ফরিদ আহমদের ছোট ভাই, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-সমাজসেবী, ঈদগাঁও ফরিদ আহমদ কলেজ (বর্তমানে রশিদ আহমদ কলেজ) এর প্রতিষ্ঠাতা মরহুম রশীদ আহমদের সহধর্মীনি।

ফরিদা রশিদ আহমদ ১৯৪৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন মরহুম আবদুর রাজ্জাক ও মাতা ছিলেন মরহুম শওকত আরা।

১৯৮৮ ইং সালে রশিদ আহমদ এর ইন্তেকালের পর তিনি স্বামীর সদ্য প্রতিষ্ঠিত ফরিদ আহমদ কলেজ পরিপূর্ণ করতে বলিষ্ঠ উদ্যোগ নেন। স্বামীর জন্মস্থান রশিদনগর ইউনিয়নে নাদেরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, ফরিদা রশিদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ আর রশীদ, ফাহমিদা নাসের হেফজখানাসহ বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও হাফেজখানা প্রতিষ্ঠা করেন। মানবকল্যানে দান করেছেন অকাতরে। ফরিদা আহমদ কলেজে (বর্তমানে রশিদ আহমদ কলেজ) একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস ও নাদেরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন গুণবতী নারী ফরিদা রশিদ আহমদ ।

মহৎপ্রাণ ফরিদা রশিদ আহমদ পিতৃমাতৃহীন এতিমদের লালন পালন, নিঃস্ব অসহায় গরীব লোক যারা আশ্রয়হীন তাদের ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া, গরীব অসহায় রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা, কন্যাদায়গ্রস্থদের সাহায্য করা, বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করা ছাড়াও শিক্ষাবিস্তারে নীরবে নিভৃতে কাজ করে গেছেন। রামু’র রশিদনগরের মাছুয়াখালী ও ধলিরছড়া এলাকায় তিনি ‘গরীবের মা’ নামে খ্যাত।

তিনি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ফরিদা-রশীদ ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি হতদরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। যাদের মাথা গোঁজার ঠাই নেই, তাদেরকে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন। হতদরিদ্র অসহায় লোকদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেছেন অকাতরে। প্রতি বছর দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করতেন এবং করোনা মহামারীর সময়ে অত্র এলাকায় নিঃস্ব অসহায় লোকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন কোন প্রচার ছাড়া।

তিনি কক্সবাজার সিটি কলেজ ও কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের দাতা সদস্য। ব্যক্তিগত জীবনে ফরিদা রশিদ আহমদ একজন ধার্মিক মহিলা। ২০২০ সালে তিনি নাদেরুজ্জামান হাই স্কুলের সন্নিকটে নান্দনিক ও আধুনিক স্থাপত্য নকশায় নির্মাণ করেন মসজিদ আর রশিদ। এছাড়া তিনি সাতকানিয়া, ঢাকা, নাটোর ও ফরিদপুরে ৪টি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্বামী রশিদ আহমদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে, বৃহত্তর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নকে বিভক্ত করে একটি নতুন ইউনিয়ন সৃজন করা হয়। এই নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করা হয় “রশিদনগর ইউনিয়ন”।

১৯৮৮ সালে স্বামী রশিদ আহমদ মৃত্যুবরণ করলে, তিনি স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল এভিয়েশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হিসেবে ব্যবসার হাল ধরেন। গ্রীন ডেল্টা ইনসিওরেন্স কোঃ লিঃ ও ডেল্টা লাইফ ইনসিওরেন্স কোঃ লিঃ এরও তিনি ডাইরেক্টর ছিলেন। অল্প দিনেই তিনি ব্যবসায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেন। স্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে ফরিদা রশিদ আহমদ সমাজসেবা, মানবিক ও কল্যানকর প্রতিষ্ঠান গড়ায় মনোযোগী হন।