আজিজ রাসেল, সিবিএন:
কক্সবাজার-দোহাজারি রেললাইনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সাথে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ আইকনিক রেল স্টেশনের পর্দা উন্মোচন করেন।

শনিবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে উদ্বোধন শেষে পতাকা উড়িয়ে হুঁইসেল বাজিয়ে টিকেট কেটে ট্রেনে চড়ে রামু জংশন পর্যন্ত যান। এসময় প্রথম যাত্রী ছিল ৩০০ জন।

এর আগে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন বিএনপি-জামায়াতের চোখে পড়ে না। আসলে তারা অন্ধ। চোখের চিকিৎসায় আধুনিক চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। মাত্র ১০ টাকায় সেখানে চিকিৎসা নেওয়া যায়। তাদের (বিএনপি) অনুরোধ করবো, সেখানে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। তাদের চোখের দোষ না, এটা তাদের মনের অন্ধকার। এদের ব্যাপারে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। তারা ধ্বংস জানে, সৃষ্টি জানে না। তারা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারে।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরও সংযুক্ত হবে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমের জন্য এ প্রকল্পের আওতায় ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবন থেকেও যেন ট্রেনে আসা যায় তাও করবো। আমাদের পদ্মার ওপাড়ের লোকেরাও রেলে কক্সবাজার আসতে পারবেন। খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন আবার চালু করছি। সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যেন কক্সবাজার আসা-যাওয়া করা যায়, সে ব্যবস্থা করছি। রেলেও ওয়াইফাই কানেকশন দিয়ে দেবো। রেলে সেবার মান বাড়বে।’

প্রতিটি সরকারি স্থাপনা যত্নের সঙ্গে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে আমরা যে কাজগুলো করেছি, সবগুলো ব্যবহারে যত্নবান হবেন। আধুনিক রেলস্টেশন করে দিয়েছি। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এসে যেন দেখে যে, বাংলাদেশে উন্নত ও সুন্দর রেলস্টেশন আছে। রেল গাড়িগুলো যেন পরিষ্কার থাকে, যত্রতত্র ময়লা না হয়। নিজেদের সম্পদ মনে করে ব্যবহার করবেন।’

১৮৯০ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রথম পরিকল্পনা করা হয় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমারের (সাবেক বার্মা) আকিয়াব বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের। তারপর ১৯১৭ থেকে ১৯২১ সালে চট্টগ্রাম-দোহাজারী পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হয়। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে পরিকল্পনা অনুসারে কক্সবাজার পর্যন্ত বাকি অংশে রেলপথ তৈরি হয়নি। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেলপথ স্থাপনের জন্য ২০১০ সালে প্রথম প্রকল্প নেওয়া হয়।

বিকালে প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীর মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ১৬ টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। পরে টাউনশীপ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণ দিবেন তিনি।