বিজিবির হাতে আটক ৬৫টি মহিষের বিষয়ে উখিয়া থানার ওসির প্রতিবেদন চেয়েছেন বিচারক

ব্যক্তি মালিকানাধীন মহিষ নিলাম না দিতে ৩৪ বিজিবিকে আদালতের নির্দেশ

প্রকাশ: মে ৯, ২০২৪ ১০:৪২ pm , আপডেট: মে ৯, ২০২৪ ১০:৪৬ pm

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


নিজস্ব প্রতিবেদক:
ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬৫টি মহিষ উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী বিজিবি ক্যাম্পে আটকের বিষয়ে উখিয়া থানার ওসি থেকে ১৩ মে এর মধ্যে প্রতিবেদন চেয়েছেন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ।

সেই সঙ্গে ব্যক্তি মালিকানাধীন আটককৃত ৬৫ টি মহেষ সংক্রান্ত জিডি করা হোক বা না হোক, তা যদি ৩৪ বিজিবির নিকট রক্ষিত থাকে তবে আদালতের অনুমতি ব্যতীত নিলাম কার্য সম্পাদন না করতে ৩৪ বিজিবি অধিনায়ককে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) বিবিধ ১০/২০২৪ (উখিয়া) শুনানি শেষে এই আদেশ দেন বিচারক।

আদেশে ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬৫টি মহিষ বালুখালী বিজিবি ক্যাম্পের (৩৪ ব্যাটালিয়ন) হেফাজতে আটক রয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হয়েছে।

যদি আটক থাকে তাহলে উক্ত মহিষের আটক সংক্রান্ত থানায় জিডি করা হয়েছে কিনা এবং আটক মহিষের জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়েছে কিনা, তা আগামী ১৩ মে এর মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে উখিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ।

তার আগে ৯ মে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-৫ এ আবেদনটি করেছেন ভুক্তভোগী খামারী মকবুল আহমদ। তিনি বালুখালী এলাকার জাফর আলমের ছেলে।

তার পক্ষে মহেষগুলো জিম্মায় পাওয়ার আবেদন করেন সিনিয়র আইনজীবী মোঃ আবদুল মন্নান। সেই সঙ্গে ৩৪ বিজিবির হেফাজতে থাকা মহিষগুলো আদালতের অনুমতি ব্যতীত নিলাম কার্যক্রম না করার জন্য আদেশ দানের প্রার্থনা করেন আইনজীবী।

এডভোকেট মোঃ আবদুল মন্নান জানান, মকবুল আহমদ, জুবায়েদ হোসেন, আলী আহমদ দীর্ঘদিন যাবত খামারী হিসেবে বিভিন্ন হাট বাজার ও নিলাম থেকে গরু মহিষ ক্রয় করে ব্যবসা করে আসছেন। তাদের খামার থেকে স্থানীয় বালুখালী বিজিবি ক্যাম্পে কোম্পানি কমান্ডারের নিকট হতে মোট ৬৫ টি মহিষ নিয়ে যায়। তারা ক্যাম্পে যোগাযোগ করলে কাগজপত্র নিয়ে যেতে বলে। কথা মতো, বাজারের ক্রয় রশিদ ও সরকার নিলামের কাগজপত্র নিয়ে ক্যাম্পে গেলে তারা মহিষগুলো ছেড়ে দিবে বলে কাগজপত্র রেখে দেয়। ৬ মে রাত ১২টায় বালুখালী বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা মকবুল আহমেদের ২৬ টি, রাত দেড়টার দিকে যুবায়েদ হোসেনের ২৪টি ও আলী আহমদের ১৫টিসহ মোট ৬৫টি মহিষ নিয়ে যায়। মহেষগুলো উদ্ধারে নানা তদবিরে ব্যর্থ হয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করলে প্রাণিসম্পদ অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

গত ৭ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত ৩৩৯ নং পত্রের নির্দেশ মোতাবেক সরেজমিন তদন্ত শেষ প্রতিবেদন প্রেরণ করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মহেষগুলো বাজার থেকে রশিদমূলে ক্রয় করা এবং খামারীদের ব্যক্তি মালিকানাধীন বলে প্রমাণিত।

উখিয়া উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মু. তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব প্রতিবেদনসহ আদালতে দরখাস্ত করেন ভুক্তভোগী খামারী মকবুল আহমদ। তার আবেদনের বিস্তারিত শুনানি শেষে আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

এ বিষয়ে উখিয়া থানার ওসি মো. শামীম হোসেন জানান, আদালতের আদেশের কপি হাতে আসেনি। তদন্ত সাপেক্ষে যথা নিয়মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।