মোঃ ফারুক, পেকুয়া:

আগস্টের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত মোকাবেলা করছেন উপকূলের ৫লক্ষাধিক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি সংস্কার কাজ শেষ করেই নেমে পড়েছিল ধান ও সবজি খেতে। ঋণে জর্জরিত মানুষজন আবারো ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে গিয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে নতুন আতংক হামুন। ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় হামুন প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রুপান্তর হতে পারে এমন আশঙ্কায় সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকরা মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং শুরু করেছে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সকল সাইক্লোন সেল্টার।

জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল মৎস প্রজেক্ট। ক্ষতি হয়েছিল কোটি কোটি টাকার। সেই ক্ষতির মাঝেই মানুষজন জীবিকার তাগিদে আবারো ধান ও সবজি খেতে আয়ের মাধ্যমে ঋণমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সঞ্চয়ের স্বপ্ন দেখছিল। সেই স্বপ্নের মাঝে আবারো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাব শুরু হয়েছে। সকাল থেকে মেঘযুক্ত আকাশ থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়ে সন্ধ্যা নাগাদ প্রবল বৃষ্টি ও বাতাশ শুরু হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতোমধ্যে কক্সবাজারে ৭নং বিপদ সংকেত দেখিয়ে ৫ ফুটের মত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্খার কথা জানানোর পর ইউএনও পূর্বিতা চাকমা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সিপিপির সদস্যদের সাথে বৈঠক করেছেন। স্ব-স্ব ইউপি চেয়ারম্যানদের নিজের এলাকার মানুষজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। পর্যাপ্ত শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি মজুদ রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধার অভিযানের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ এমন নিশ্চিত করেছেন ওসি ওমর হায়দার।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পূর্ব মেহেরনামার বাসিন্দা সাকের, মনচুর, আলমগীর, মোরার পাড়া-বলির পাড়ার বাসিন্দা জাহেদ, রাসেল ও মনজুর আলম বলেন, আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় মাঠির তৈরি আমাদের অধিকাংশ বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেঙে পড়েছিল। ওই অবস্থা থেকে এখন পর্যন্ত সংস্কার করতে পারি নাই। খাবার জোগাড়ের তাগিদে এক জায়গায় দুই বার করে ধান রোপন কাজ শেষ করেছি। এখন আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্খায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

মৎস্য প্রজেক্টের মালিক সাবেক ইউপি সদস্য মমতাজুল ইসলাম ও কপিল উদ্দিন বলেন, গত বন্যায় আমাদের যা পূঁজি ছিল তা পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন আবারো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা হতে পারে এমন কথা শুনে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম ও ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু ছালেখ একই সুরে বলেন, ভয়াবহ বন্যায় ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন পর্যন্ত অনেক মানুষজন তাদের নিজ ভিটেই ফিরতে পারে নাই। এরই মাঝে ঘুর্ণিঝড় হামুন আমাদের মাঝে আবারো আতংক ছড়াচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগময়কারে কারো হাত নাই। তবে দুর্যোগকালীন সময় ও তার পরের সময় যেন সহযোগিতায় সেই কামনা করছি।

সিপিপির উপজেলা টিম লিডার বাবুল বলেন, হামুন মোকাবেলায় প্রতি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলার সিপিপির সদস্যদের প্রস্তুত। ইতোমধ্যে সচেতনমূলক প্রচারণা শুরু করেছে। মানুষজন ও পালিত পশুদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। দুর্যোগ পরবর্তি উদ্ধার অভিযানের জন্য নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে।

সদর ইউপির চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ বলেন, গত বন্যায় বেড়িবাঁধ ভেঙে আমার সদর ইউনিয়নের জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার পাশাপাশি সংগঠন ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেকে সহযোগিতা করেছিল। সেই ক্ষতির মাঝে হামুন মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ৯টি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা ইতোমধ্যে সাধারণ জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পেকুয়া থানার ওসি ওমর হায়দার বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করুক। তারপরও যদি আমরা হামুন মোকাবিলার মধ্যে পড়ি তাহলে উদ্ধার অভিযানের জন্য পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে জানমাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চামকা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রকৃতির সৃষ্টি। দুর্যোগ পরবর্তি আমাদের সকল করণীয় ঠিক করে রেখেছি। ইউপির চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সকল সাইক্লোন সেল্টার ও স্কুলগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। সিপিপির সকল সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জমা রাখা হয়েছে শুকনা খাবার ও পানি। দ্রুত উদ্ধার অভিযানের জন্য সিপিপি সহ সকল সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সকলকে দুর্যোগ পরবর্তি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।