নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্রামীণ ব্যাংক রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল শাখার সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১৯ জুন একই শাখা ব্যবস্থাপক পিটু মনি নাথ রামু থানায় মামলাটি করেছেন। যার থানা মামলা নং-৩৩/২৩

অভিযুক্ত রেজাউল করিম ইসলামাবাদ সাতজুলাকাটার বাসিন্দা মমতাজ আহমেদের ছেলে এবং গ্রামীণ ব্যাংক কর্মচারী সমিতির নির্বাহী কমিটির যোন প্রতিনিধি।

মামলার বাদি পিটু মনি নাথ বলেন, গত ১৫ জুন ব্যাংকের হেড অফিসের বদলী আদেশ মোতাবেক রেজাউল করিমকে রিলিজ অর্ডারসহ এলপিসি দেওয়া হয়। এই বদলী আদেশকে কেন্দ্র করে ১৮ জুন লোকবলসহ অফিসে ঢুকে তিনি উচ্চবাচ্য করেন এবং বদলী আদেশ ঠেকাতে সুপারিশ করতে বলেন। অপারগতা প্রকাশ করলে আমাকে গালমন্দ করেন, হুমকি ধমকি দেন। এমন আচরণে নিষেধ করলে আমাকে মারধর করেন। ২০ হাজার ৬০০ টাকা, দৈনন্দিন হাজিরা রেজিস্ট্রার ও কিছু ভাউচার নিয়ে গেছে।

তবে, অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, বদলী আদেশের খবর পেয়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। কিড়নি ও হার্টের সমস্যা বেড়ে যায়। ডাক্তারের পরামর্শে ১৫ জুন হাসপাতালে ভর্তি হই। সামান্য সুস্থতাবোধ করলে ১৭ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে রিলিজ দেয়। ১৮ জুন নিয়ম অনুযায়ী অফিসে গিয়ে রিলিজ আদেশটি দেখতে চাই। তা না দিয়ে উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখায়।
এ নিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। তাৎক্ষনাত ব্যাংক থেকে পুলিশের জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে রামু থানার এএসআই এমদাদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেয়। অভিযোগের কোন সত্যতা না পেয়ে তারা চলে যায়। মারধর কিংবা চুরির কোন ঘটনাও সেখানে ঘটেনি। মামলা সাজানোর জন্য কিছু মিথ্যা তথ্য দিয়েছে ব্যাংক কর্মকর্তা পিটু মনি নাথ।

রেজাউল করিম বলেন, ব্যাংকের ৫৮টি শাখার প্রতিনিধিদের ভোটে আমি নির্বাচিত যোন প্রতিনিধি। সে হিসেবে তাদের বিভিন্ন দাবি দেওয়া নিয়ে কথা বলতাম। অন্যায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকতাম।

বিশেষ করে যোনাল ম্যানেজার মোস্তফা কবিরের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার কর্মচারী নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় আমাকে টার্গেট করে। বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট বানোয়াট নালিশ দেয়। আমাকে ফাঁসাতে নানামুখী ফন্দি আঁটতে থাকে। বিষয়টি ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবগত। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলকেও এ বিষয়ে অবগত করানো হয়েছে। তিনি ব্যাংকের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন।

কক্সবাজার যোনাল ম্যানেজার মোস্তফা কবিরের অনিয়ম দুর্নীতি এবং অত্যাচারের ব্যাপারে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ হয়। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দাবি তুলেছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা। গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে অনেকে।

ভুক্তভোগী অনেকে জানিয়েছেন, যারা প্রতিবাদ করে তাদেরকে ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, পিরোজপুর, নেত্রকোনাসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বদলী করিয়ে দেন যোনাল ম্যানেজার মোস্তফা কবির। ইতোমধ্যে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে দিয়েছেন অনেককে। তার মানসিক নির্যাতনের কারণে ৩ জন কর্মকর্তা স্ট্রোক করেছেন। আরো অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ব্যাংকের বিধিমালায় আছে, যে কোন কর্মকর্তাকে নিজের বিভাগে বদলী করতে হবে। চাইলে নিজ শহরের ৩২ কিলোমিটার বাইরে চাকুরি করতে পারবে। এসব নির্দেশনার তোয়াক্কা করেন না মোস্তফা কবির। এরপরও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

রেজাউল করিম বলেন, আমি কোন অপরাধ করে থাকলে ব্যাংকের বিধি অনুসারে আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারে। আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এসব না করে মিথ্যা অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে কেন মামলা করল?

ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি সঠিকভাবে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন রেজাউল করিম।

যোনাল ম্যানেজার মোস্তফা কবিরের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কলের পর খুদে বার্তা পাঠানো হয়। এরপর কোন ফিরতি বার্তাও পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ফতেখাঁরকুল শাখার সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় নিন্দা জানিয়েছেন কর্মচারী সমিতির নেতৃবৃন্দ। তারা কাল্পনিক ও বানোয়াট মামলাটি প্রত্যাহার দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে যোনাল ম্যানেজার মোস্তফা কবিরের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি দিয়েছেন। দাবির পক্ষে কর্মচারী সমিতির নেতৃবৃন্দ গণস্বাক্ষরও সংগ্রহ করেছেন।