সিবিএন ডেস্ক:
সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (২৭ আগস্ট) দিনগত রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি ময়মনসিংহ শহরের নেক্সাস কার্ডিয়াক হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

সোমবার (২৮ আগস্ট) প্রথমে ঢাকায়, পরে ময়মনসিংহে মরহুমের জানাজা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে নেক্সাস হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত পৌনে ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। দিবাগত রাত ৩টার দিকে পরিবারের পক্ষ থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি গোলাম ফেরদৌস ঝিলু তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

মৃত্যুর সময় মতিউর রহমানের বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়ে এবং নাতি-নাতনি রেখে গেছেন। তাঁর মরদেহ ময়মনসিংহের মিন্টু কলেজ মাঠে রাখা হয়েছে। তিনি কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা এবং অধ্যক্ষ ছিলেন।

মতিউর রহমানের ভাগ্নে বুলবুল আহমদ জানান, হেলিকপ্টারে করে মরদেহ ঢাকায নিয়ে জানাজা হবে। পরে ময়মনসিংহ আনা হবে। বাদ আসর ময়মনসিংহ কেন্দ্রিয় ইদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা এবং পরে প্রবাসি দুই মেয়ে দেশে আসা সাপেক্ষে নিজ বাড়ি মড়লবাড়িতে পুনরায় জানাজা হবে। পরে মড়লবাড়ি কবরস্থানে দাফন করা হবে তাঁর মরদেহ

অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ছুটে যান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু, মরহুমের ছেলে ও মহানগর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ।

মতিউর রহমান ১৯৪২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আকুয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন। তাঁর পিতার নাম আবদুর রেজ্জাক এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা খাতুন। বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় তিনি ঢাকা হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৫৮ সালে আ.লীগে যোদ দেন। ১৯৮৬ সাল থেকে ১৮ বছর ময়মনসিংহ জেলা আ.লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ ও ২০০৮ সালে ময়মনসিংহ সদর আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনবার ময়মনসিং পৌরসভার মেয়র ছিলেন। ২০২২ সালে তাঁকে একুশে পদক দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ঢালু যুবশিবিরের ইনচার্জ এবং ৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর সঙ্গে তিনি মুক্ত ময়মনসিংহে প্রবেশ করেন। তিনি স্কুল কলেজ মাদ্রাসাসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।