মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

মামলা তদন্তকালে প্রয়োজনীয় উপাদান থাকা সত্বেও তদন্ত প্রতিবেদনে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা বাদ দেওয়ায় রামু থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এস.আই শাহাদাত হোসেন কক্সবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজিএম) আলমগীর মোহাম্মদ ফারুকী’র আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি তার ভূল স্বীকার করে এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো : রামু’র দক্ষিণ মিটাছড়ি ইউনিয়নের রশিদ আহমদ এর স্ত্রী রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে ২০২০ সালের ১৪ জুলাই কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫ জনকে সাক্ষী করে একই এলাকার মোঃ ইউসুফ, পিতা- কলিম উল্লাহ সহ ৪ জনকে আসামী করা হয়। যার সি.আর মামলা নম্বর : ১০২/২০২০ (রামু)।

বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে রামু থানার ওসি-কে তদন্তের নির্দেশ দেন। রামু থানার ওসি মামলাটি এস.আই শাহাদাত হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর ফৌজদারি দন্ডবিধির শুধুমাত্র ৪৪৭/৩২৩/৩০৭/৩৪ ধারায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলাটি বিচারের জন্য আমলী আদালত থেকে কক্সবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজিএম) আদালতে বিচারের জন্য বদলী হয়ে আসে।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য চার্জ গঠনকালে মামলার তথ্য উপাত্ত, স্থিরচিত্র, মেডিকেল সনদ ইত্যাদির সাথে তদন্ত প্রতিবেদনের অসামঞ্জস্যতা দেখতে পান। আঘাতপ্রাপ্ত (জখমী) ব্যক্তির শরীরে ধারালো অস্ত্র দ্বারা মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত স্থিরচিত্র, মেডিকেল সনদ সহ প্রয়োজনীয় উপাদান থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে ফৌজদারী দন্ড বিধির ৩২৪ ধারা যুক্ত না করে শুধুমাত্র ৪৪৭/৩২৩/৩০৭/৩৪ ধারা দিয়ে করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। যা চার্জ গঠনকালে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মোহাম্মদ ফারুকী’র নজরে আসে। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মোহাম্মদ ফারুকী এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।

এরপর মামলার তথ্য উপাত্ত, স্থিরচিত্র, মেডিকেল সনদে ধারালো অস্ত্রের ২ টি কাটা জখমের সুস্পষ্ট বর্ণনা সহ প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত থাকা সত্বেও মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদনে কেন ফৌজদারী দন্ড বিধির ৩২৪ ধারা অন্যান্য ধারার সাথে যুক্ত করা হয়নি, তার ব্যাখা দিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা রামু থানার এসআই শাহাদাত হোসেনকে ২৬ এপ্রিল স্বশরীরে আদালতে এসে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের প্রেক্ষিতে রামু থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল স্বশরীরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে তার ভুল স্বীকার করে আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একইসাথে অনুরূপ ঘটনা ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি হবেনা মর্মে তিনি আদালতকে প্রতিশ্রুতি দেন। বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মোহাম্মদ ফারুকী এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেনকে ভর্ৎসনা করেন এবং সতর্ক করে দেন।