চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

ঘনিয়ে এসেছে পবিত্র ঈদুল আযহা। ব্যস্ত কামার শিল্পী। হাপার টানছেন একজন, ওই হাপরে সৃষ্ট বাতাসে কয়লায় জ্বলছে আগুন। লাল লোহায় হাতুড়ির আঘাত। টুংটাং শব্দ। আগুনে লাল হওয়া লোহাকে আকৃতি দিতে তৈরি হচ্ছে ছুরি, চাপাতি, দা, বটিসহ নানান সব উপকরণ। আকৃতি দিচ্ছেন কামার শিল্পী। পাশেই একজন শান দিয়ে এসবকে চকচকে করে তুলছেন।

পবিত্র কোরবানির ঈদ যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে এসব কামার শিল্পীদের ব্যস্ততা। হাপর টানার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ঘন হচ্ছে, উৎপন্ন হচ্ছে তীব্র গরমের। আগুন গরমে ঘেমে জবুথুবু কারিগররা। তবুও নেই বিশ্রাম, বলতে গেলে এখন তাদের দম ফেলারও সময় নেই।

সারা বছর অলস সময় পার করলেও প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে ব্যস্ততা বেড়ে যায় এসব কামার শিল্পীদের। নাওয়া, খাওয়া, বিশ্রাম বাদ দিয়ে দিনরাত চলে আগুন-লোহার কাজ। কারণ ঈদের আগেই কাস্টমারকে দিতে হবে সে সবের ডেলিভারি।

চকবাজারের কামারপল্লীতেও দেখা গেছে দা-ছুরি বানানোর ধুম। কামাররা দোকানে বিভিন্ন আকারের দা-ছুরি বানিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন। আবার অনেকে ঘরের পুরাতন ছুরি-দা এনে দিচ্ছেন ধার করানোর জন্য। এখানে আকার ভেদে ধামা-দা বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। একটি ছুরি তৈরি করতে আকারভেদে নেওয়া হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। বড় ছুরিগুলোতে বানাতে একটি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। আর বটি বানাতে কামাররা নিচ্ছেন ৫০০ টাকা পর্যন্ত। চট্টগ্রাম নগরীর আকবরশাহ রেল হাউজিং, পাহড়তলী, খুলশী আবাসিক, চকবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

কামারপট্টিতে ছুরি কিনতে সরোয়ার বলেন, ‘প্রতিবছর কোরবানের ঈদ আসলে দা-ছুরি কেনা হয়। এবারও এখানে এসেছি কিনতে। কিন্তু গত বছরের চেয়ে দাম একটু বেশি চাইছে। বড় ছুরিগুলোর দাম ৬০০ টাকার ওপরে বলছে।’

চট্টগ্রাম চকবাজারের কামারপল্লীর রাতুল দাশ বলেন, ‘বছরের অন্য সময় একবারে ফাঁকা থাকলেও প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে বেচা-বিক্রি বেড়ে যায়। এখন যেহেতু ঈদের দুই/তিন দিন বাকি, সেহেতু এখন প্রচুর কাজের চাপ। দিনরাত কাজ করে যেতে হচ্ছে তাদের। তবে আগের তুলনায় কাজ কমেছে। কারণ বাজারে বিভিন্ন দোকানে ঈদের সময় রেডিমেড, চাইনিজ সব চাপাতি, চাকু, ছুরি পাওয়া যায়। সেগুলো দেখতেও সুন্দর, তাই অনেকে এখন ওগুলো কেনেন। তবে আমরা যেগুলো লোহা পিটিয়ে বানাই সেগুলোর মান এবং স্থায়িত্ব অনেক বেশি, গুণগত মানের হয়।’

তিনি আরও বলেন, এখন সব কিছুর খরচ অনেক বেশি। আগের মতো এখন আর লাভ করা যায় না। কারণ এগুলো ভালো মতো কাজ করতে হলে লাগে রেলের লোহা, এখন এসব লোহা ১৩০/১৪০ টাকা কেজি পড়ে যায়। এক বস্তা পাথর কয়লা ২৫০০-২৬০০ টাকা বস্তা পড়ছে। যা আগে অনেক কম ছিল। ফলে এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে গেছে।

কামার শিল্পী রাজীব দাশ বলেন, ‘আগে ব্যবসা ভালোই চলত কিন্তু বর্তমান বাজারে ব্যবসা খুব খারাপ। এখন আমাদের ব্যস্ততা বহুগুণে বেড়েছে। ঈদের জন্য চুক্তিভিত্তিক কারিগর এনেছে অনেকে, সব কামারের দোকানে চলছে ব্যস্ততা। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত এ ব্যস্ততা চলবে।’