ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
২০১৪ ও ২০১৮ মার্কা নির্বাচন করলে সরকার ভুল করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ওয়াদা করেছে। আশা করছি তাদের ওয়াদা রক্ষিত হবে। আস্থার একটি নির্বাচন উপহার দিবে। কারণ, বিশ্বের নজর এখন বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে।

রবিবার (৩ ডিসেম্বর) কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে প্রার্থী হিসেবে নিজের মনোনয়নপত্র বৈধতার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমন মন্তব্য করেছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান।

এদিন সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এমপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলে। কক্সবাজার-১ আসনে বৈধতা পেয়েছে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমসহ ৮ প্রার্থী।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপিসহ ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছে আমার বিবেক বলছে, আরো একবার সেই রকম নির্বাচন করে সরকার ভুল করবে না। এবার সরকার নিশ্চয় সচেতন হবে।

বড় একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসছে না। সেকারণে ভোটে উৎসবে কমতি থাকবে বলেও মন্তব্য করেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

তিনি বলেন, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে আমি নির্বাচন করছি। কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসন থেকে পার্টির মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন নির্বাচন করবেন। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। সবাই সহযোগিতা করলে আমরা বিজয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ।

চট্টগ্রামের বাসিন্দা হয়েও কক্সবাজার থেকে কেন নির্বাচন করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে নির্বাচন করার দাওয়াত পেয়েছি। সবগুলো গ্রহণ না করে কক্সবাজারকেই গ্রহণ করেছি। গুরুত্ব দিচ্ছি।

চট্টগ্রাম-৫ আসনেও আমার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। সময় মতো সেটি প্রত্যাহার করব। অথবা চুপ থাকব। যাতে করে অন্যদের কষ্ট না হয়।

সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনের যে গুঞ্জন উঠেছে তার জবাবে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, বাংলাদেশে কথার কোন শেষ নাই। কথা বলতে ট্যাক্স লাগে না। ভ্যাট দিতে হয় না। যে যার ইচ্ছে মতো বলেই ফেলে। কাজেই যা কিছু শোনা যায় তা সত্য না।

যেমন, যাচাই-বাছাই শেষে আমার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার। কিন্তু প্রচার হলো, আমার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। দৈনিক আজাদীর মতো পত্রিকার অনলাইনেও সেই নিউজটি করেছে। দুঃখজনক বিষয়।

সালাহউদ্দিন আহমেদ সিআইপির প্রার্থীতা বাতিলের পর সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সঙ্গে আমার প্রত্যাশার কোন সম্পর্ক নাই। কারণ, আরো ৪ সপ্তাহ সময় আছে। ভোটারদের কাছে যেতে হবে। তাদের সন্তুষ্ট এবং মন জয় করতে হবে। তারপরে তারা আমাকে ভোট দিবে। ওনি বাতিল হয়েছে বলে যে আমাকে ভোট দেবে, এই যুক্তিতে আমি বিশ্বাস করিনা। কারণ, তিনি আপিলও করতে পারেন।

শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, কক্সবাজারসহ সারা দেশের বিভিন্ন আসনে কল্যাণ পার্টির পক্ষ থেকে ২১ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত বাছাইয়ে কয়জন টিকছেন এবং কয়জন নির্বাচন করছেন, সেটি সময়ে বলা যাবে। তার আগে না।

তিনি বলেন, ২০১৪ তাহলে আমরা নির্বাচনে যাই নাই। কিন্তু আমাদের একজন সাবেক মহাসচিব বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আশা করছি, সবার সহযোগিতায় এবার আমি জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারবো।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। হঠাৎ কেন তাদের ছেড়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন অংশগ্রহণ করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর এক মিনিটের নোটিশে ২০ দলীয় জোট ভেঙ্গে দিয়েছে বিএনপি। আমাদেরকে এতিম, পথহারা করে দিয়েছে। আমরা নিজেদের মতো সুসংগঠিত হয়ে গত ১১ মাস টিকেছিলাম। বিএনপিকে শুভেচ্ছা, সালাম। আমাদের সমালোচনা করুক। আমি খুশি মনে মেনে নিব।

তিনি বলেন, আমরা বিএনপিতে ছিলাম না। ১২ দলীয় জোটে যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম। আমাদের মতো ছোট দলগুলো দিয়ে এই সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব না। সরকার পতনের জন্য বিএনপির মতো দলগুলো দিয়েই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমাদের নেতৃত্বে না। এজন্য আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ সময় কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন, অতিরিক্ত মহাসচিব আবদুল্লাহ আল হাসান সাকিব, কক্সবাজার জেলা সভাপতি ইসমাইল ফারুক চৌধুরী, সহসভাপতি তারেক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল হায়দার চৌধুরীসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।