প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

বিগত ৯১ সালের ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি শোকাবহ দিন। দুঃসহ সে স্মৃতি এখনও কাঁদায় স্বজনহারা মানুষগুলোকে। সেই ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি বয়ে নিয়ে আবারও উপকূলীয় মানুষের কাছে দিনটি বারে বারে ফিরে আসে। সেই ভয়াল দিনের কথা স্মরণ করে আতংকে থাকে ভুক্তভোগীরা। সেই কালো রাতের স্মৃতি আজও কাঁদায় উপকুলবাসিকে। গতকাল ২৯ এপ্রিল স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল কুতুবদিয়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হুমায়ুন সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষানুরাগি ও রাজনীতিক এম এজাবতুল্লাহ কুতুবীর পরিচালনায় ১ নং ওয়ার্ডের বড় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস, সহ সভাপতি জহির বহদ্দার, সেক্রেটারি ছৈয়দ আলম কোং, তরুণ রাজনীতিক এসএম ইউনুস, মিজানুর রহমান, নুরুল হক ও আবদুল জব্বার প্রমুখ। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওঃ আজিজুল্লাহ।

বক্তারা বলেন, সে ৩১ বছর আগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাথা গুজার ঠাঁই মেলেনি এখনো। শত-সহস্র অসহায় পরিবার কুতুবদিয়ার বেডিবাধেঁর বাইরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। একইভাবে, মহেশখালীর ধলঘাটা ও মাতারবাড়ী পেকুয়ার মগনামা, রাজাখালী ও উজানটিয়া এবং চকরিয়ার বদরখালীতে বেডিবাধেঁর বাইরে অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের মাথাগুজার ঠাঁই।

ওইদিনের নিহতের সংখ্যা বিচারে স্মরনকালের ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলির মধ্যে একটি। এটি ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল বাংলাদেশে দক্ষিণপূর্ব চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ২৫০কিমি/ঘণ্টা বেগে আঘাত করে। এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ৬মিটার (২০ ফুট) উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত করে এবং এর ফলে প্রায় ১,৩৮,০০০ মানুষ নিহত হয় এবং প্রায় ১ কোটি মানুষ আশ্রয়হীন ও তাদের সর্বস্ব হারায়।

৩১ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াল স্মৃতি এখনো তাড়া করে সেদিনের ঝড়ে বেঁচে যাওয়া মানুষদের। ওই দিনটের কথা মনে করলে এখনো অনেকে আঁতকে ওঠেন।

ভয়াল ওই ঘটনা এখনও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়ায় উপকূলবাসীকে। জলোচ্ছ্বাস আর ঘূর্ণিঝড়ের কথা মনে হলে গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যায় উপকূলবাসীর। ঘটনার এতো বছর পরও নিহতদের লাশ, স্বজন হারানোদের আর্তচিৎকার আর বিলাপের স্মৃতি মুছে ফেলতে পারছেন না তারা।

২৯ এপ্রিলের মধ্যরাতে আঘাত হানা প্রকৃতির নিষ্ঠুর কষাঘাত প্রচ- ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গিয়েছিল কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালীসহ দেশের ১৩টি উপকূলীয় জেলার শত শত ইউনিয়ন। ঘণ্টায় ২০০ থেকে ২৫০কিলোমিটার গতিবেগের প্রচ- ঘূর্ণিঝড় এবং ২৫ থেকে ৩০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে দেশের উপকূলীয় এলাকা পরিণত হয়েছিল বিরাণভূমিতে। ভয়াবহ ওই ঘূর্ণিঝড়ে মারা যান প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ। যদিও সরকারি হিসেব মতে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার। এতে লাখের উপরে প্রাণ হারিয়ে ছিল।

এতে লাখের উপরে প্রাণ হারিয়ে ছিল শুধু কক্সবাজার উপকূলীয় জনপদে। সম্পদহানি হয়েছিল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রায় ১ কোটি মানুষ।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলে কক্সবাজার জেলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হচ্ছে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা। ওই ঘূর্ণিঝড়ে কুতুবদিয়া দ্বীপে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ মারা যায়। ঘূর্ণিঝড়ের পর সামর্থ্যবান প্রায় মানুষ দ্বীপ ছেড়ে চলে যায় অন্যত্র।